মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে রাজধানীতে সিএনজি স্টেশনজুড়ে দীর্ঘ লাইন

রাজধানীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন খাত। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় রাজধানীর অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ধীরগতিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধও রাখা হয়েছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না অনেক চালক।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে মালিবাগ, বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, বনশ্রী, মুগদা ও সবুজবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশন ঘুরে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রতিটি স্টেশনেই তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

একই সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক এলাকাতেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

চালকদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অথচ গাড়ির জমা, কিস্তি ও সংসারের ব্যয় আগের মতোই বহন করতে হচ্ছে।

মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক আবদুল কাদের বলেন, ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েছি, দুপুর হয়ে গেলেও গ্যাস পাইনি। সারাদিন লাইনে থাকলে আয় করব কখন? সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি স্টেশনে চালক সুমন মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সংকট অনেক বেড়েছে। অনেক সময় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যায় না। আজ সকালে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে গ্যাস পেয়েছি, তা দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছি। এখন আবার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এভাবে চলতে থাকলে মালিকের জমা ও সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক কামাল হোসেন বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের লাইনে কেটে যাচ্ছে। ফলে আয় কমে গেছে, পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মুগদা বিশ্বরোড এলাকার শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় দুটি কম প্রেশারের মধ্যে মাত্র একটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে স্টেশন পরিচালনা করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে স্টেশন পরিচালনা ও কর্মীদের টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

গ্যাস সংকটে রাজধানীতে সিএনজি স্টেশনজুড়ে দীর্ঘ লাইন

Update Time : ১১:১৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাজধানীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন খাত। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় রাজধানীর অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ধীরগতিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধও রাখা হয়েছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না অনেক চালক।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে মালিবাগ, বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, বনশ্রী, মুগদা ও সবুজবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশন ঘুরে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রতিটি স্টেশনেই তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

একই সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক এলাকাতেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

চালকদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অথচ গাড়ির জমা, কিস্তি ও সংসারের ব্যয় আগের মতোই বহন করতে হচ্ছে।

মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক আবদুল কাদের বলেন, ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েছি, দুপুর হয়ে গেলেও গ্যাস পাইনি। সারাদিন লাইনে থাকলে আয় করব কখন? সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি স্টেশনে চালক সুমন মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সংকট অনেক বেড়েছে। অনেক সময় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যায় না। আজ সকালে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে গ্যাস পেয়েছি, তা দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছি। এখন আবার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এভাবে চলতে থাকলে মালিকের জমা ও সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক কামাল হোসেন বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের লাইনে কেটে যাচ্ছে। ফলে আয় কমে গেছে, পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মুগদা বিশ্বরোড এলাকার শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় দুটি কম প্রেশারের মধ্যে মাত্র একটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে স্টেশন পরিচালনা করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে স্টেশন পরিচালনা ও কর্মীদের টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।