ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর নির্বাচনের আয়োজনের আহ্বানের পর রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সময়ে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। খবর এএফপির।
সামরিক আইনের অধীনে ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া রুশ আক্রমণ প্রতিরোধে দেশটি পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ায় এই পদক্ষেপটিকে দেশটির জনগণ এখনও ব্যাপকভাবে সমর্থন করছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি এই ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন নিজেই একটি বিরাট ঝুঁকি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন দেশের জন্য একটি সুনামির মতো হবে যা ইউক্রেনকে বিভক্ত করে দেবে।’
২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ৪৮ বছর বয়সী এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা যদি দেশটাকে ধ্বংস করতে চাই, তবে যুদ্ধের এই সময়টাতে আমরা নির্বাচনের দিকে হাঁটতে পারি।’
বেশ কিছু রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন। ইউক্রেনের এই নেতা জনপ্রিয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভকে বরখাস্ত করার পর সম্প্রতি এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়।
অপসারিত ফেদোরোভ চলতি সপ্তাহে কীভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা যায় তার একটি পথ খোঁজার আকস্মিক আহ্বান জানান—তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেননি, যার ফলে তার সমর্থকদের একাংশও তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধার কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং দখলকৃত এলাকার বাসিন্দারা কীভাবে ভোট দেবেন সেই জটিলতা, পাশাপাশি রয়েছে রাশিয়ার অপপ্রচারের হুমকি।
‘বিপজ্জনক পরিণতি’
রাজধানী কিয়েভ এবং অন্যান্য শহরগুলোতে প্রতিদিন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেন যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই এই নির্বাচনের দাবিটি সামনে এসেছে।
কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির একটি জরিপ অনুসারে, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় বিশ্বাস করেন যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন হওয়া উচিত।
সোমবার দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে জেলেনস্কি এই ব্রিফিংটি করেন। ওই অনুষ্ঠানে একাধিক আন্তর্জাতিক নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর মাঝেই ফেদোরোভের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। অন্যদিকে, এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাশিয়ার তীব্র হামলার মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে মিত্রদের।
ফেদোরোভকে ইঙ্গিত করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি সে নিজে ভুল পথে হাঁটছে—অথবা তাকে ভুলের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’
সাবেক এই মন্ত্রী ড্রোন যুদ্ধের রণকৌশলের একজন বিশিষ্ট সমর্থক ছিলেন—যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। পাশাপাশি তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কারের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে তিনি সামরিক কমান্ড ও তাদের ঐতিহ্যগত অবস্থানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ইউক্রেনের সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ শুরুতে ফেদোরোভের পক্ষ নিয়েছিল এবং সর্বাধিনায়ক ওলেকসান্দর সিরস্কির বরখাস্তের দাবি তুলেছিল।
এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, জনগণের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, তবে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ‘অশ্রদ্ধাশীল’ মনোভাব প্রকাশ না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন।
জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কবে থেকে জীবন দেওয়া মানুষগুলোর চেয়ে প্রচারণা বা মার্কেটিং বড় হয়ে উঠল?’ জেলেনস্কি নিজেকে বিভাজনের বিরুদ্ধে এক প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি সমাজ এবং সেনাদের মধ্যে কোনো বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়। আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে এই ঝুঁকিটি রয়েছে এবং পরিস্থিতি এই দিকে এগোলে তা আমাদেরকে বিপজ্জনক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক 












