বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যার পানি কমলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, খাদ্য-বিদ্যুৎ সংকট, মানবেতর জীবন

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশে পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং ভেঙে পড়া

যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে লাখো মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেক বাড়িতে এখনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অসংখ্য পরিবার শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত থাকায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৭৬টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে। চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক

তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, থানা চত্বর, আদালত ও পৌরসভা কার্যালয়েও এখনো বন্যার পানি রয়েছে। বিদ্যুৎ

সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক এলাকা অন্ধকারে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি ঘরে পানি থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না।

 

বাঁশখালীর ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, সরল, কাহারঘোনাসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি নামেনি। সাগরের জোয়ার ও পাহাড়ি ঢলে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক

এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নার চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও দেড় হাজার প্যাকেট

রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও ত্রাণ বিতরণ করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এসব সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বন্যার পানি কমলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, খাদ্য-বিদ্যুৎ সংকট, মানবেতর জীবন

Update Time : ১২:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশে পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং ভেঙে পড়া

যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে লাখো মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেক বাড়িতে এখনো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অসংখ্য পরিবার শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত থাকায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৭৬টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে। চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক

তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, থানা চত্বর, আদালত ও পৌরসভা কার্যালয়েও এখনো বন্যার পানি রয়েছে। বিদ্যুৎ

সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক এলাকা অন্ধকারে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি ঘরে পানি থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না।

 

বাঁশখালীর ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, সরল, কাহারঘোনাসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি নামেনি। সাগরের জোয়ার ও পাহাড়ি ঢলে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক

এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নার চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও দেড় হাজার প্যাকেট

রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও ত্রাণ বিতরণ করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এসব সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।