শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘গণনিপীড়ক’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটি।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এই বিক্ষোভের আয়োজন করে।

বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এরআগে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশও করে দলটি।

সেই সমাবেশে জামায়াত নেতারা বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ বলেও অভিযোগ করেছেন।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সরকার এই বাজেটে কোনো নীতিগত সংস্কারের প্রস্তাব দিতে পারে নাই। এই কারণে এটাকে গতানুগতিক বাজেট বলা হচ্ছে। যোগ-বিয়োগ করে একটি ফলাফল নির্ণয় করে বাজেট দিয়েছে। বাহবা করার সুযোগ নাই।”

‘জনপ্রত্যাশা পূরণে আধাআধি প্রচেষ্টা’, বাজেট নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণে আধাআধি প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বাজেটে সমাজের বিভিন্ন অংশকে তুষ্ট করার চেষ্টা থাকলেও বিশাল ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের উপরই প্রধানত বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে। তবে যদি করদাতার সংখ্যা বাড়ে এবং রাজস্ব আদায়ে সরকার দক্ষতা দেখাতে পারে এই লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব নয়।

তার মতে, বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোয় সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য খুব বেশি উচ্চাভিলাষী নয় এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও বাস্তবসম্মত। তবে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।

বাজেট ‘আশাবাদে ভারাক্রান্ত’, বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা ইসলামী আন্দোলনের

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘আশাবাদে ভারাক্রান্ত’ উল্লেখ করে এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বাজেটটি সুলিখিত হলেও এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আশাবাদ, মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বর্তমান বাস্তবতায় কঠিন হবে।”

তাই, “বাজেট বক্তব্যে ভঙ্গুর অর্থনীতি, অস্থির বিশ্বরাজনীতির কথা আলোচনা করেও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করাটা কেবলই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বলেই মনে হচ্ছে” বলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা।

তিনি মনে করেন, জনগণকে অর্জন অযোগ্য আশা না দিয়ে বাস্তবভিত্তিক লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা উচিৎ।

“বাজেট প্রণয়নের আগে কেবলই ব্যবসায়ী ও সমাজের ওপরের তলার অংশীজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করা হয়। কিন্তু শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনা করা হয় না। এবারও তার ব্যক্তিক্রম হয় নাই। আমরা বলবো, জনমানুষের সাথে কথা বলতে হবে, তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট তৈরি করতে হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ

Update Time : ১০:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘গণনিপীড়ক’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটি।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এই বিক্ষোভের আয়োজন করে।

বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এরআগে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশও করে দলটি।

সেই সমাবেশে জামায়াত নেতারা বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ বলেও অভিযোগ করেছেন।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সরকার এই বাজেটে কোনো নীতিগত সংস্কারের প্রস্তাব দিতে পারে নাই। এই কারণে এটাকে গতানুগতিক বাজেট বলা হচ্ছে। যোগ-বিয়োগ করে একটি ফলাফল নির্ণয় করে বাজেট দিয়েছে। বাহবা করার সুযোগ নাই।”

‘জনপ্রত্যাশা পূরণে আধাআধি প্রচেষ্টা’, বাজেট নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণে আধাআধি প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বাজেটে সমাজের বিভিন্ন অংশকে তুষ্ট করার চেষ্টা থাকলেও বিশাল ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের উপরই প্রধানত বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে। তবে যদি করদাতার সংখ্যা বাড়ে এবং রাজস্ব আদায়ে সরকার দক্ষতা দেখাতে পারে এই লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব নয়।

তার মতে, বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোয় সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য খুব বেশি উচ্চাভিলাষী নয় এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও বাস্তবসম্মত। তবে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।

বাজেট ‘আশাবাদে ভারাক্রান্ত’, বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা ইসলামী আন্দোলনের

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘আশাবাদে ভারাক্রান্ত’ উল্লেখ করে এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বাজেটটি সুলিখিত হলেও এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আশাবাদ, মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বর্তমান বাস্তবতায় কঠিন হবে।”

তাই, “বাজেট বক্তব্যে ভঙ্গুর অর্থনীতি, অস্থির বিশ্বরাজনীতির কথা আলোচনা করেও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করাটা কেবলই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বলেই মনে হচ্ছে” বলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা।

তিনি মনে করেন, জনগণকে অর্জন অযোগ্য আশা না দিয়ে বাস্তবভিত্তিক লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা উচিৎ।

“বাজেট প্রণয়নের আগে কেবলই ব্যবসায়ী ও সমাজের ওপরের তলার অংশীজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করা হয়। কিন্তু শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনা করা হয় না। এবারও তার ব্যক্তিক্রম হয় নাই। আমরা বলবো, জনমানুষের সাথে কথা বলতে হবে, তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট তৈরি করতে হবে।”