বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় মে মাসে এইডসে ৩ জনের মৃত্যু, জেলায় আক্রান্ত ৩৮৫

কুমিল্লায় মে মাসে এইচআইভি সংক্রমণে বা এইডসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যু হল।

মে মাসের ৮, ১৩ ও ২৫ তারিখে এ তিনজনের মৃত্যু হয় বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং এ্যান্ড কাউন্সেলিং- এইচটিসি এবং এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপী- এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান।

তিনি বলেন, মৃতদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তারা সবাই কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

মারা যাওয়া এক যুবকের স্ত্রী বলেন, তার স্বামী কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি আগেই এইচআইভি পজেটিভ হলেও বিয়ের সময় জানাননি। পরে স্বামীর মৃত্যুর আগে ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিষয়টি তারা জানতে পারেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর কুমিল্লা মেডিকেলে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন তিনি নিজেও এখন এইচআইভি পজেটিভ, এমন তথ্য দিয়ে এই নারী বলেন, বর্তমানে শ্বশুর বাড়ির বাধা উপেক্ষা করেই তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের একটি শিশু সন্তান আছে, তবে শিশুটি এইচআইভি আক্রান্ত নয়।

হাসপাতালের এইচটিসি এবং এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এইচআইভি সংক্রমণে এ বছরের জানুয়ারিতে দুইজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ৩৮৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের টিউবারকুলোসিস-টিবি সংক্রমণও রয়েছে।

এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর মো. আরিফ হাসান বলেন, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত মোট ছয় হাজার ৬৪৬টি পরীক্ষায় ২৭৮ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা বন্ধ করেছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কুমিল্লা এআরটিতে ২০১৯ সালের ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫টি পজেটিভ, ২০২০ সালে ৩১১টি পরীক্ষায় ৮টি পজেটিভ, ২০২১ সালে ৪৯৮টি পরীক্ষায় ১৪টি পজেটিভ, ২০২২ সালে ৭৮৬টি পরীক্ষায় ২১টি পজেটিভ, ২০২৩ সালে ১ হাজার ২৩০টি পরীক্ষায় ৪৮ জন পজেটিভ, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৮১টি পরীক্ষায় ৫৮ জন পজেটিভ, ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২টি পজেটিভ এবং ২০২৬ সালের ৫ মাসেই ৬৭২টি পরীক্ষায় ৩৭টি পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের এই হার ঊর্ধমুখী।

আরিফ বলেন, সরচেয়ে শঙ্কার বিষয় হল- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংক্রমণের ধরনে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে রক্তের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা বেশি ছিল, বর্তমানে যৌন সংক্রমণের মাধ্যমেই বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, শনাক্তদের মধ্যে পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে এমন ৯১ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৪০ জন, বিদেশফেরত ৪৯ জন, বিবাহিত সঙ্গীর মাধ্যমে সংক্রমিত ৪১ জন এবং নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে সংক্রমিত ২১ জন রয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত।

হাসান আরও বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হয়। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সেন্টারে কর্মরত কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে, যদিও তারা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

কুমিল্লায় মে মাসে এইডসে ৩ জনের মৃত্যু, জেলায় আক্রান্ত ৩৮৫

Update Time : ১২:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

কুমিল্লায় মে মাসে এইচআইভি সংক্রমণে বা এইডসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যু হল।

মে মাসের ৮, ১৩ ও ২৫ তারিখে এ তিনজনের মৃত্যু হয় বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং এ্যান্ড কাউন্সেলিং- এইচটিসি এবং এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপী- এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান।

তিনি বলেন, মৃতদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তারা সবাই কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

মারা যাওয়া এক যুবকের স্ত্রী বলেন, তার স্বামী কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি আগেই এইচআইভি পজেটিভ হলেও বিয়ের সময় জানাননি। পরে স্বামীর মৃত্যুর আগে ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিষয়টি তারা জানতে পারেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর কুমিল্লা মেডিকেলে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন তিনি নিজেও এখন এইচআইভি পজেটিভ, এমন তথ্য দিয়ে এই নারী বলেন, বর্তমানে শ্বশুর বাড়ির বাধা উপেক্ষা করেই তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের একটি শিশু সন্তান আছে, তবে শিশুটি এইচআইভি আক্রান্ত নয়।

হাসপাতালের এইচটিসি এবং এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এইচআইভি সংক্রমণে এ বছরের জানুয়ারিতে দুইজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ৩৮৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের টিউবারকুলোসিস-টিবি সংক্রমণও রয়েছে।

এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর মো. আরিফ হাসান বলেন, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত মোট ছয় হাজার ৬৪৬টি পরীক্ষায় ২৭৮ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা বন্ধ করেছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কুমিল্লা এআরটিতে ২০১৯ সালের ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫টি পজেটিভ, ২০২০ সালে ৩১১টি পরীক্ষায় ৮টি পজেটিভ, ২০২১ সালে ৪৯৮টি পরীক্ষায় ১৪টি পজেটিভ, ২০২২ সালে ৭৮৬টি পরীক্ষায় ২১টি পজেটিভ, ২০২৩ সালে ১ হাজার ২৩০টি পরীক্ষায় ৪৮ জন পজেটিভ, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৮১টি পরীক্ষায় ৫৮ জন পজেটিভ, ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২টি পজেটিভ এবং ২০২৬ সালের ৫ মাসেই ৬৭২টি পরীক্ষায় ৩৭টি পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের এই হার ঊর্ধমুখী।

আরিফ বলেন, সরচেয়ে শঙ্কার বিষয় হল- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংক্রমণের ধরনে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে রক্তের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা বেশি ছিল, বর্তমানে যৌন সংক্রমণের মাধ্যমেই বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, শনাক্তদের মধ্যে পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে এমন ৯১ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৪০ জন, বিদেশফেরত ৪৯ জন, বিবাহিত সঙ্গীর মাধ্যমে সংক্রমিত ৪১ জন এবং নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে সংক্রমিত ২১ জন রয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত।

হাসান আরও বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হয়। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সেন্টারে কর্মরত কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে, যদিও তারা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।