বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ নবজাতকের মৃত্যু, আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, তা জানতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ দর্শানোর এই নোটিশ হাসপাতালের সামনে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি আকারে টাঙানো হয়েছে।

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, তা জানতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ দর্শানোর এই নোটিশ হাসপাতালের সামনে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি আকারে টাঙানো হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা নানা বিষয় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ বলছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটিতে হাসপাতাল চালানোর মতো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। হাসপাতালে পর্যাপ্ত আলোবাতাসের অভাব ছিল এবং পোস্ট অপারেটিভ রোগীর রুমে অধিক সংখ্যক রোগী ও স্বজনের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।

তদন্তে উঠে আসা হাসপাতালের নানা অসঙ্গতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে সেখানে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেশি ছিল। এছাড়া ওয়ার্ডে রোগীর পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সরা ঠিকমতো সেবা দেয়নি এবং নার্সদের ভূমিকাও রোগীবান্ধব ছিল না।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রোগীর স্বজনেরা বেশ কয়েকবার বলার পরও নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলাজনিত কারণও শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

ঘটনার সময় যেসব দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সার্বিকভাবে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার দু’দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে বদ্ধ ঘরে হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে কেউ যেন সাহস না পায় সে অনুযায়ী কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে মারা যায় ৬ নবজাতক। এ ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়। প্রথমে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও, পরে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে তদন্ত কমিটিতে নিউরো চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ আরও কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

৬ নবজাতকের মৃত্যু, আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ

Update Time : ০৯:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, তা জানতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ দর্শানোর এই নোটিশ হাসপাতালের সামনে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি আকারে টাঙানো হয়েছে।

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, তা জানতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ দর্শানোর এই নোটিশ হাসপাতালের সামনে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি আকারে টাঙানো হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা নানা বিষয় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ বলছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটিতে হাসপাতাল চালানোর মতো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। হাসপাতালে পর্যাপ্ত আলোবাতাসের অভাব ছিল এবং পোস্ট অপারেটিভ রোগীর রুমে অধিক সংখ্যক রোগী ও স্বজনের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।

তদন্তে উঠে আসা হাসপাতালের নানা অসঙ্গতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে সেখানে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেশি ছিল। এছাড়া ওয়ার্ডে রোগীর পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সরা ঠিকমতো সেবা দেয়নি এবং নার্সদের ভূমিকাও রোগীবান্ধব ছিল না।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রোগীর স্বজনেরা বেশ কয়েকবার বলার পরও নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলাজনিত কারণও শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

ঘটনার সময় যেসব দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সার্বিকভাবে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার দু’দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে বদ্ধ ঘরে হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে কেউ যেন সাহস না পায় সে অনুযায়ী কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে মারা যায় ৬ নবজাতক। এ ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়। প্রথমে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও, পরে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে তদন্ত কমিটিতে নিউরো চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ আরও কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।