শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ইস্যুতে মিরপুরে জনতার ঢল

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন করার সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এবং বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। মাত্র দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি নতুন বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হলো না রামিসার।

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে মিরপুর-১০ এলাকায় জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুক্রবার (২২ মে) জুমআ’র নামাজের পর থেকেই মানুষ জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

এদিন বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন মানুষ ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’ এবং ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুরো এলাকাজুড়ে এক থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন রামিসার মা-বাবা। আজ দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের নিজ গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হন। তারা যখন ঢাকা ছাড়ছিলেন, তখন বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন করার সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এবং বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। মাত্র দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি নতুন বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হলো না রামিসার।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা চালিয়েছিল। ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে আদালতে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে। এই মামলায় অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

রামিসা ইস্যুতে মিরপুরে জনতার ঢল

Update Time : ০৭:৪৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন করার সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এবং বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। মাত্র দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি নতুন বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হলো না রামিসার।

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে মিরপুর-১০ এলাকায় জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুক্রবার (২২ মে) জুমআ’র নামাজের পর থেকেই মানুষ জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

এদিন বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন মানুষ ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’ এবং ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুরো এলাকাজুড়ে এক থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন রামিসার মা-বাবা। আজ দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের নিজ গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হন। তারা যখন ঢাকা ছাড়ছিলেন, তখন বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন করার সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এবং বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। মাত্র দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি নতুন বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হলো না রামিসার।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা চালিয়েছিল। ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে আদালতে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে। এই মামলায় অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।