বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যা: আসামিকে আনতেই আদালত চত্বরে উত্তেজনা

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানাকে (৩৪) আদালতে হাজির করা হয়েছে। এসময় আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে তার শাস্তি দাবি করেন।

বুধবার (২০ মে) সোহেল রানাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালতে আনার সময় অনেকে উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও জানান।

এদিন বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সোহেল রানাকে আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, একই ঘটনায় গ্রেফতার তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর–১১ এলাকার বি ব্লকের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শিশুটি হত্যার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও ফ্ল্যাটের ভেতর থেকেই দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন শিশুটির মা তাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ করেন। এরপর পাশের ফ্ল্যাটে খোঁজ নিতে গিয়ে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ হতে পারে, যেখানে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত সোহেল রানা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা— ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় রামিসাকে। পরে মরদেহ লুকানোর উদ্দেশ্যে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।গ্রেফতার স্বপ্না আক্তার দাবি করেন, তিনি ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কিছুই জানেন না। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ তার বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যা: আসামিকে আনতেই আদালত চত্বরে উত্তেজনা

Update Time : ০৬:২২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানাকে (৩৪) আদালতে হাজির করা হয়েছে। এসময় আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে তার শাস্তি দাবি করেন।

বুধবার (২০ মে) সোহেল রানাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালতে আনার সময় অনেকে উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও জানান।

এদিন বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সোহেল রানাকে আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, একই ঘটনায় গ্রেফতার তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর–১১ এলাকার বি ব্লকের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শিশুটি হত্যার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও ফ্ল্যাটের ভেতর থেকেই দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন শিশুটির মা তাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ করেন। এরপর পাশের ফ্ল্যাটে খোঁজ নিতে গিয়ে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ হতে পারে, যেখানে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত সোহেল রানা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা— ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় রামিসাকে। পরে মরদেহ লুকানোর উদ্দেশ্যে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।গ্রেফতার স্বপ্না আক্তার দাবি করেন, তিনি ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কিছুই জানেন না। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ তার বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।