শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে মাজারে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরের সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম ও অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাতে শাহ আলী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. আরমান দেওয়ান (২৯) ও এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি মো. আজম (২৬)।

মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন, মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) ও কাজী পনির (৫০)।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।

তিনি জানান, শাহ আলী মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় এক নারীর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মাদক সেবনের অভিযোগে সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে আসাদের মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শাহ আলী থানায় ৯ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মোসাম্মৎ রেসমি বেগম (৪০) নামের এক নারী।

তিনি মামলার এজাহারে বলেন, তিনি সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.) মিরপুর মাজার শরিফে প্রায় ১৭ বছর ধরে জিয়ারত করে আসছেন। বিভিন্ন সময় মাজারে ওরশ হলে তিনি সেখানে আস্তানা করে ভক্তদের সহযোগিতা করেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে সন্ধ্যার পর মানত ও জিয়ারতের জন্য হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। গত ১৪ মে রাত ১২টার দিকে এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে প্রধান গেট দিয়ে মাজারের অভ্যন্তরে অনধিকার প্রবেশ করে। এরপর তারা জিয়ারতকারী এবং মানতকারীদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। অনেকের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ও গুরুতর জখম করে এবং মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা হেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলে ও মোমবাতি জ্বালানোর প্লেট ভাঙচুর করে চরমভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। এই ঘটনা দেখে তিনি আসামিদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

রাজধানীতে মাজারে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার

Update Time : ০১:৪০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম ও অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাতে শাহ আলী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. আরমান দেওয়ান (২৯) ও এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি মো. আজম (২৬)।

মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন, মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) ও কাজী পনির (৫০)।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।

তিনি জানান, শাহ আলী মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় এক নারীর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মাদক সেবনের অভিযোগে সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে আসাদের মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শাহ আলী থানায় ৯ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মোসাম্মৎ রেসমি বেগম (৪০) নামের এক নারী।

তিনি মামলার এজাহারে বলেন, তিনি সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.) মিরপুর মাজার শরিফে প্রায় ১৭ বছর ধরে জিয়ারত করে আসছেন। বিভিন্ন সময় মাজারে ওরশ হলে তিনি সেখানে আস্তানা করে ভক্তদের সহযোগিতা করেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে সন্ধ্যার পর মানত ও জিয়ারতের জন্য হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। গত ১৪ মে রাত ১২টার দিকে এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে প্রধান গেট দিয়ে মাজারের অভ্যন্তরে অনধিকার প্রবেশ করে। এরপর তারা জিয়ারতকারী এবং মানতকারীদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। অনেকের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ও গুরুতর জখম করে এবং মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা হেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলে ও মোমবাতি জ্বালানোর প্লেট ভাঙচুর করে চরমভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। এই ঘটনা দেখে তিনি আসামিদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে।