শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাশাপাশি পাঁচ কবরে মা, তিন সন্তান ও ভাইকে দাফন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই জেলায়। নিহতদের মরদেহ রোববার (১০ মে) সকালে গোপালগঞ্জে পৌঁছালে এক মর্মস্পর্শী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জানাজা শেষে মা, তিন শিশু সন্তান ও ভাইকে গ্রামের বাড়িতে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে দাফন করা হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহবাহী দুটি ফ্রিজিং ভ্যান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় প্রিয়জনদের একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমান। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

নিহতরা হলেন- শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।

বেলা ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর ঢল নামে। জানাজা শেষে উত্তর চরপাড়া নতুন কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে তাদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। একসঙ্গে একই পরিবারের পাঁচজনের দাফনের দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনতা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চিরকুট, টাইপ করা অভিযোগপত্র ও মাদকসেবনের আলামত পাওয়া গেছে। নিহত শারমিনের স্বজনদের দাবি, পারিবারিক কলহ ও স্বামী ফোরকান মিয়ার সন্দেহপ্রবণ আচরণের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ফোরকান দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গৃহকর্তা ও মূল অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ফোরকান কয়েকজন স্বজনকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং পরে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ব্রুকলিনের রকওয়ে অ্যাভিনিউয়ে ভ/য়াবহ গু/লির ঘটনা—অল্পের জন্য বেঁচে গেল বাংলাদেশির

পাশাপাশি পাঁচ কবরে মা, তিন সন্তান ও ভাইকে দাফন

Update Time : ০৩:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই জেলায়। নিহতদের মরদেহ রোববার (১০ মে) সকালে গোপালগঞ্জে পৌঁছালে এক মর্মস্পর্শী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জানাজা শেষে মা, তিন শিশু সন্তান ও ভাইকে গ্রামের বাড়িতে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে দাফন করা হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহবাহী দুটি ফ্রিজিং ভ্যান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় প্রিয়জনদের একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমান। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

নিহতরা হলেন- শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।

বেলা ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর ঢল নামে। জানাজা শেষে উত্তর চরপাড়া নতুন কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে তাদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। একসঙ্গে একই পরিবারের পাঁচজনের দাফনের দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনতা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চিরকুট, টাইপ করা অভিযোগপত্র ও মাদকসেবনের আলামত পাওয়া গেছে। নিহত শারমিনের স্বজনদের দাবি, পারিবারিক কলহ ও স্বামী ফোরকান মিয়ার সন্দেহপ্রবণ আচরণের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ফোরকান দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গৃহকর্তা ও মূল অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ফোরকান কয়েকজন স্বজনকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং পরে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।