বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা স্থগিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আহ্বান

সৌদি আরবের এক সতর্কবার্তার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে পবিত্র হজ চলাকালীন এই ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মারাত্মক ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ করতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার পর দেশটিতে আবারও বিমান হামলা শুরু করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং জানান যে এই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কোনো তাড়া নেই। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর হামলা চালানোর ঠিক ‘এক ঘণ্টা আগের’ চূড়ান্ত অবস্থানে ছিলেন, কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন।

মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে এই পবিত্র হজ মৌসুমে হামলা চালানো হলে মুসলিম বিশ্বে আমেরিকার মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। এছাড়া, হজের ঠিক পরপরই মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।

এই সময়ে যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি আরব বা এর আশেপাশের দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তবে অঞ্চলজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এর ফলে হজে আসা লাখ লাখ পুণ্যার্থী সেখানে আটকা পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় দশ লাখের বেশি মুসলিম হজ পালন করতে সৌদি আরবে সমবেত হন।

আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের নিজস্ব পরামর্শক দলও তাকে সতর্ক করেছিল যে হজের সময় হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাই ধারণা করছেন, হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং ইসলামের এই পবিত্র উৎসব শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

চলতি বছরের রমজান মাসের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু হজ মৌসুমের বিশাল জনসমাগম এবং এর সাথে জড়িত লজিস্টিক ও কৌশলগত জটিলতার কারণে এবার হামলা চালানো থেকে বিরত থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছে হোয়াইট হাউস।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, সেটির সময়কালের কারণে ইরানের অভ্যন্তরে এটিকে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এই বিষয়ের ওপর মন্তব্য জানতে ব্রিটেনের গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করেছে।

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নতুন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। সিএনএন-কে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান ইতোমধ্যে তাদের ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো প্রতিস্থাপন করেছে এবং সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ইরানকে পুনর্গঠনের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল, ইরানিরা তার চেয়েও দ্রুত গতিতে এটি সম্পন্ন করেছে।

বুধবার (২২ মে) ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তারা এই যুদ্ধবিরতির সুযোগকে দেশের শক্তি এবং সামরিক সক্ষমতা ‘পুনর্নির্মাণের’ কাজে সফলভাবে ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা শুরু করে তবে ইরান এই সংঘাতকে ‘আঞ্চলিক সীমানার বাইরে’ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনায় ‘অনেক ভালো অগ্রগতি হয়েছে’, যদিও এর চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা স্থগিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আহ্বান

Update Time : ০৬:০৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

সৌদি আরবের এক সতর্কবার্তার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে পবিত্র হজ চলাকালীন এই ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মারাত্মক ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ করতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার পর দেশটিতে আবারও বিমান হামলা শুরু করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং জানান যে এই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কোনো তাড়া নেই। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর হামলা চালানোর ঠিক ‘এক ঘণ্টা আগের’ চূড়ান্ত অবস্থানে ছিলেন, কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন।

মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে এই পবিত্র হজ মৌসুমে হামলা চালানো হলে মুসলিম বিশ্বে আমেরিকার মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। এছাড়া, হজের ঠিক পরপরই মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।

এই সময়ে যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি আরব বা এর আশেপাশের দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তবে অঞ্চলজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এর ফলে হজে আসা লাখ লাখ পুণ্যার্থী সেখানে আটকা পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় দশ লাখের বেশি মুসলিম হজ পালন করতে সৌদি আরবে সমবেত হন।

আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের নিজস্ব পরামর্শক দলও তাকে সতর্ক করেছিল যে হজের সময় হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাই ধারণা করছেন, হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং ইসলামের এই পবিত্র উৎসব শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

চলতি বছরের রমজান মাসের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু হজ মৌসুমের বিশাল জনসমাগম এবং এর সাথে জড়িত লজিস্টিক ও কৌশলগত জটিলতার কারণে এবার হামলা চালানো থেকে বিরত থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছে হোয়াইট হাউস।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, সেটির সময়কালের কারণে ইরানের অভ্যন্তরে এটিকে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এই বিষয়ের ওপর মন্তব্য জানতে ব্রিটেনের গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করেছে।

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নতুন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। সিএনএন-কে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান ইতোমধ্যে তাদের ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো প্রতিস্থাপন করেছে এবং সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ইরানকে পুনর্গঠনের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল, ইরানিরা তার চেয়েও দ্রুত গতিতে এটি সম্পন্ন করেছে।

বুধবার (২২ মে) ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তারা এই যুদ্ধবিরতির সুযোগকে দেশের শক্তি এবং সামরিক সক্ষমতা ‘পুনর্নির্মাণের’ কাজে সফলভাবে ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা শুরু করে তবে ইরান এই সংঘাতকে ‘আঞ্চলিক সীমানার বাইরে’ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনায় ‘অনেক ভালো অগ্রগতি হয়েছে’, যদিও এর চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।