বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দরে ট্রাম্পের বিরল অভ্যর্থনা পেতে যাচ্ছেন শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে নজিরবিহীন আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর চীনা প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে থাকছে জমকালো অভ্যর্থনা, সামরিক কুচকাওয়াজ, যুদ্ধবিমানের ফ্লাইওভার ও হোয়াইট হাউজে রাষ্ট্রীয় ভোজ।

তবে এই আড়ম্বরের মধ্যেও বৃহস্পতিবারের (২৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প-শি বৈঠক থেকে বড় কোনো চুক্তি বা যুগান্তকারী সমঝোতার প্রত্যাশা কম। বরং বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তাইওয়ান, বিরল খনিজ ও ইরান ইস্যুতে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক যাতে আবার বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ায়, সেই স্থিতাবস্থা ধরে রাখাই এবারের বৈঠকের বড় লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশেষ বিমানে করে বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন শি জিনপিং। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী পেং লিইউয়ান, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই ছি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্য কর্মকর্তারা।

শিকে স্বাগত জানাতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে যাবেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিদেশি কোনো নেতাকে সরাসরি বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানানো অত্যন্ত বিরল।

এই সফরটি এক দশকেরও বেশি সময় পর কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প চীনে গিয়েছিলেন ও ২০২৬ সালের মে মাসে শি বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এবারের সফরটি দুই নেতার ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শির সফরে হোয়াইট হাউজে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, রোজ গার্ডেনে সামরিক আয়োজন ও রাষ্ট্রীয় ভোজ থাকবে। ভোজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সফরের শেষ দিনে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ট্রাম্প ও মেলানিয়া শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে চা খাবেন। এরপর তারা যাবেন ন্যাশনাল আর্কাইভসে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধানের মূল নথি সংরক্ষিত আছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুই নেতা মুখোমুখি হলে আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে এ প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প ও শির বৈঠক থেকে কোনো বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লাইফেংয়ের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বাণিজ্যযুদ্ধও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে শুল্ক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমলেও বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। বিরল মাটির খনিজ বা রেয়ার আর্থ সরবরাহে চীনের প্রাধান্যও বেইজিংয়ের বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার। উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শিল্প এ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

তাইওয়ান নিয়েও দুই দেশের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে, আর যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির নিরাপত্তার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চীনা রাষ্ট্রদূতও বৈঠকের আগে তাইওয়ান ও মানবাধিকারকে বেইজিংয়ের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইরান ইস্যুতেও থাকবে চাপ

আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিষয়টিও আসতে পারে। এরই মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। তবে ট্রাম্প এই অভিযোগকে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ কম দেখিয়েছেন।

এদিকে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থানও পুরোপুরি এক নয়। ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সমঝোতা হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

বিমানবন্দরে ট্রাম্পের বিরল অভ্যর্থনা পেতে যাচ্ছেন শি জিনপিং

Update Time : ১১:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে নজিরবিহীন আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর চীনা প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে থাকছে জমকালো অভ্যর্থনা, সামরিক কুচকাওয়াজ, যুদ্ধবিমানের ফ্লাইওভার ও হোয়াইট হাউজে রাষ্ট্রীয় ভোজ।

তবে এই আড়ম্বরের মধ্যেও বৃহস্পতিবারের (২৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প-শি বৈঠক থেকে বড় কোনো চুক্তি বা যুগান্তকারী সমঝোতার প্রত্যাশা কম। বরং বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তাইওয়ান, বিরল খনিজ ও ইরান ইস্যুতে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক যাতে আবার বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ায়, সেই স্থিতাবস্থা ধরে রাখাই এবারের বৈঠকের বড় লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশেষ বিমানে করে বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন শি জিনপিং। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী পেং লিইউয়ান, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই ছি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্য কর্মকর্তারা।

শিকে স্বাগত জানাতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে যাবেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিদেশি কোনো নেতাকে সরাসরি বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানানো অত্যন্ত বিরল।

এই সফরটি এক দশকেরও বেশি সময় পর কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প চীনে গিয়েছিলেন ও ২০২৬ সালের মে মাসে শি বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এবারের সফরটি দুই নেতার ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শির সফরে হোয়াইট হাউজে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, রোজ গার্ডেনে সামরিক আয়োজন ও রাষ্ট্রীয় ভোজ থাকবে। ভোজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সফরের শেষ দিনে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ট্রাম্প ও মেলানিয়া শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে চা খাবেন। এরপর তারা যাবেন ন্যাশনাল আর্কাইভসে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধানের মূল নথি সংরক্ষিত আছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুই নেতা মুখোমুখি হলে আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে এ প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প ও শির বৈঠক থেকে কোনো বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লাইফেংয়ের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বাণিজ্যযুদ্ধও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে শুল্ক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমলেও বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। বিরল মাটির খনিজ বা রেয়ার আর্থ সরবরাহে চীনের প্রাধান্যও বেইজিংয়ের বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার। উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শিল্প এ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

তাইওয়ান নিয়েও দুই দেশের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে, আর যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির নিরাপত্তার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চীনা রাষ্ট্রদূতও বৈঠকের আগে তাইওয়ান ও মানবাধিকারকে বেইজিংয়ের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইরান ইস্যুতেও থাকবে চাপ

আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিষয়টিও আসতে পারে। এরই মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। তবে ট্রাম্প এই অভিযোগকে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ কম দেখিয়েছেন।

এদিকে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থানও পুরোপুরি এক নয়। ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সমঝোতা হতে পারে।