বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেল না হাম আক্রান্ত সন্তানকে, বাবার আর্তনাদ

দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষা আর মানতের পর কোলজুড়ে এসেছিল একমাত্র ছেলেসন্তান। কিন্তু মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে সেই আনন্দের জোয়ার রূপ নিল গভীর শোকে। কুমিল্লা, ফেনী ও ঢাকার সাত-সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও শেষ রক্ষা হলো না। হামে আক্রান্ত হয়ে আজ রোববার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সাত মাস বয়সী শিশু সাজিদ আল নাহিয়ান।

সাজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সিংরাইশ গ্রামের পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের পর জন্ম নেওয়া এই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন চলছে শোকের মাতম।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল সাজিদ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর কিছুটা সুস্থ হলেও গত ১২ মে আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। এরপর তাকে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।


সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় সাজিদকে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় এনে একে একে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এবং সর্বশেষ তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি আসলে মারাত্মকভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে।

এরপর সাজিদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যায় সে।

চোখের জল মুছতে মুছতে শিশুটির বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন বলেন, ‘তিন মেয়ের পর ১৬ বছর অপেক্ষা করে আমাদের কোল আলো করে ছেলে সন্তান এসেছিল। আমাদের আনন্দের শেষ ছিল না। কিন্তু কুমিল্লা, ফেনী আর ঢাকার সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। ডাক্তারদের হামের বিষয়টি শনাক্ত করতেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।’

চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল বলেন, ‘শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছিল। এখানে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিই। পরে জানতে পেরেছি, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা গেছে।’
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

৭ হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেল না হাম আক্রান্ত সন্তানকে, বাবার আর্তনাদ

Update Time : ১০:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষা আর মানতের পর কোলজুড়ে এসেছিল একমাত্র ছেলেসন্তান। কিন্তু মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে সেই আনন্দের জোয়ার রূপ নিল গভীর শোকে। কুমিল্লা, ফেনী ও ঢাকার সাত-সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও শেষ রক্ষা হলো না। হামে আক্রান্ত হয়ে আজ রোববার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সাত মাস বয়সী শিশু সাজিদ আল নাহিয়ান।

সাজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সিংরাইশ গ্রামের পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের পর জন্ম নেওয়া এই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন চলছে শোকের মাতম।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল সাজিদ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর কিছুটা সুস্থ হলেও গত ১২ মে আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। এরপর তাকে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।


সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় সাজিদকে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় এনে একে একে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এবং সর্বশেষ তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি আসলে মারাত্মকভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে।

এরপর সাজিদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যায় সে।

চোখের জল মুছতে মুছতে শিশুটির বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন বলেন, ‘তিন মেয়ের পর ১৬ বছর অপেক্ষা করে আমাদের কোল আলো করে ছেলে সন্তান এসেছিল। আমাদের আনন্দের শেষ ছিল না। কিন্তু কুমিল্লা, ফেনী আর ঢাকার সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। ডাক্তারদের হামের বিষয়টি শনাক্ত করতেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।’

চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল বলেন, ‘শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছিল। এখানে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিই। পরে জানতে পেরেছি, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা গেছে।’