বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবম-দশম শ্রেণিতে তিনটি ভাষা বাধ্যতামূলক করছে ভারত

ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই) আগামী ১ জুলাই থেকে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিন-ভাষা নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নবম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে বাড়তি পড়াশোনার চাপ কমাতে এবং শেখার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় তৃতীয় ভাষার (আর-৩) জন্য কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে বোর্ড স্পষ্ট করেছে। এই তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে স্কুলভিত্তিক এবং অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০ এবং স্কুল শিক্ষার জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (এনসিএফ-এসই) ২০২৩-এর নির্দেশিকা অনুসরণ করে গত ৫ মে সিবিএসই এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বেছে নেওয়া তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতের নিজস্ব বা আদিবাসী (নেটিভ) ভাষা হতে হবে।

সিবিএসই-র অনুমোদিত বিষয়ের তালিকা থেকে স্কুলগুলো যেকোনো ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে, তবে শর্ত থাকে যে তার মধ্যে দুটি ভারতীয় ভাষা হতে হবে। তৃতীয় ভাষার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ফলাফল শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত সিবিএসই সার্টিফিকেটে যথাযথভাবে উল্লেখ করা থাকবে এবং এই বিষয়ের নম্বরের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে দশম শ্রেণির মূল বোর্ড পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া হবে না।

এই নতুন নিয়মে ইংরেজি এবং অন্যান্য বিদেশি ভাষার অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দিল্লির একটি স্কুলের অধ্যক্ষ সুধা আচার্য জানান, সিবিএসই-র তালিকায় হিন্দি ও ইংরেজিসহ মোট ৪৪টি ভাষা রয়েছে। যদি কোনো স্কুল প্রথম ভাষা হিসেবে উর্দু এবং দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি, তামিল বা অন্য কোনো ভারতীয় ভাষা বেছে নেয়, তবে তারা তৃতীয় ভাষা হিসেবে ফ্রেঞ্চ বা জার্মানের মতো বিদেশি ভাষা রাখতে পারবে। কারণ ইতোমধ্যে দুটি ভারতীয় ভাষা সেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রথম বা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে বেছে নেয়, তবে সে তৃতীয় ভাষা হিসেবে কোনো বিদেশি ভাষা নিতে পারবে না। কারণ ইংরেজিকে ভারতে বিদেশি ভাষা হিসেবে গণ্য না করা হলেও এটি ভারতের নিজস্ব আদিবাসী ভাষা নয়। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষা শেখার জন্য স্কুলগুলো রিডিং ক্লাবের মাধ্যমে চতুর্থ ভাষা হিসেবে তা অফার করতে পারবে।

পরিবর্তনকালীন এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সিবিএসই জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের জন্য নতুন পাঠ্যবই তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় ভাষার পাঠ্যবই ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে দেশের সকল স্কুলকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ওএসআইএস পোর্টালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত তাদের দেওয়া তৃতীয় ভাষার তালিকা আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

নবম-দশম শ্রেণিতে তিনটি ভাষা বাধ্যতামূলক করছে ভারত

Update Time : ১২:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই) আগামী ১ জুলাই থেকে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিন-ভাষা নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নবম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে বাড়তি পড়াশোনার চাপ কমাতে এবং শেখার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় তৃতীয় ভাষার (আর-৩) জন্য কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে বোর্ড স্পষ্ট করেছে। এই তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে স্কুলভিত্তিক এবং অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০ এবং স্কুল শিক্ষার জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (এনসিএফ-এসই) ২০২৩-এর নির্দেশিকা অনুসরণ করে গত ৫ মে সিবিএসই এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বেছে নেওয়া তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতের নিজস্ব বা আদিবাসী (নেটিভ) ভাষা হতে হবে।

সিবিএসই-র অনুমোদিত বিষয়ের তালিকা থেকে স্কুলগুলো যেকোনো ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে, তবে শর্ত থাকে যে তার মধ্যে দুটি ভারতীয় ভাষা হতে হবে। তৃতীয় ভাষার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ফলাফল শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত সিবিএসই সার্টিফিকেটে যথাযথভাবে উল্লেখ করা থাকবে এবং এই বিষয়ের নম্বরের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে দশম শ্রেণির মূল বোর্ড পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া হবে না।

এই নতুন নিয়মে ইংরেজি এবং অন্যান্য বিদেশি ভাষার অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দিল্লির একটি স্কুলের অধ্যক্ষ সুধা আচার্য জানান, সিবিএসই-র তালিকায় হিন্দি ও ইংরেজিসহ মোট ৪৪টি ভাষা রয়েছে। যদি কোনো স্কুল প্রথম ভাষা হিসেবে উর্দু এবং দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি, তামিল বা অন্য কোনো ভারতীয় ভাষা বেছে নেয়, তবে তারা তৃতীয় ভাষা হিসেবে ফ্রেঞ্চ বা জার্মানের মতো বিদেশি ভাষা রাখতে পারবে। কারণ ইতোমধ্যে দুটি ভারতীয় ভাষা সেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রথম বা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে বেছে নেয়, তবে সে তৃতীয় ভাষা হিসেবে কোনো বিদেশি ভাষা নিতে পারবে না। কারণ ইংরেজিকে ভারতে বিদেশি ভাষা হিসেবে গণ্য না করা হলেও এটি ভারতের নিজস্ব আদিবাসী ভাষা নয়। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষা শেখার জন্য স্কুলগুলো রিডিং ক্লাবের মাধ্যমে চতুর্থ ভাষা হিসেবে তা অফার করতে পারবে।

পরিবর্তনকালীন এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সিবিএসই জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের জন্য নতুন পাঠ্যবই তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় ভাষার পাঠ্যবই ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে দেশের সকল স্কুলকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ওএসআইএস পোর্টালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত তাদের দেওয়া তৃতীয় ভাষার তালিকা আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।