5:11 am, Tuesday, 12 May 2026

মার্কিন ভিসার বন্ড পরিশোধ সহজ হলো

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশকে যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। নতুন এই নীতির আওতায় এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদনের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ পরিশোধে জটিলতা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক তা সহজ করে দিয়েছে।

বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড ও ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  রবিবার (১১ মে) জারি করা পরিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়।

এতে বলা হয়, কোনও দেশের ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা আমানত জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে বিদেশে ওই অর্থ পাঠাতে পারবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চ্যুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে। এসব কার্ডে আগাম প্রয়োজনীয় বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ জমা রাখা যাবে। এছাড়া যেসব গ্রাহকের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারাও ভ্রমণ কোটার আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থ পুনরায় জমা করতে পারবেন। তবে এই অর্থ কেবল ভিসা সংক্রান্ত কাজেই ব্যবহার করা যাবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কর্তৃপক্ষ বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত দিলে তা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে পৃথক নিবন্ধন সংরক্ষণ এবং অর্থ ফেরতের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ধরনের অর্থ পাঠানোর আগে আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট, দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র, ইনভয়েসসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনসংক্রান্ত রেফারেন্স বা স্বীকৃতিপত্র সংগ্রহের কথাও বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সুবিধা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব অথবা এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেসব দেশে ভিসাপ্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি বা নিরাপত্তা আমানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়ক হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

মার্কিন ভিসার বন্ড পরিশোধ সহজ হলো

Update Time : 09:29:01 pm, Monday, 11 May 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশকে যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। নতুন এই নীতির আওতায় এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদনের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ পরিশোধে জটিলতা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক তা সহজ করে দিয়েছে।

বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড ও ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  রবিবার (১১ মে) জারি করা পরিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়।

এতে বলা হয়, কোনও দেশের ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা আমানত জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে বিদেশে ওই অর্থ পাঠাতে পারবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চ্যুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে। এসব কার্ডে আগাম প্রয়োজনীয় বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ জমা রাখা যাবে। এছাড়া যেসব গ্রাহকের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারাও ভ্রমণ কোটার আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থ পুনরায় জমা করতে পারবেন। তবে এই অর্থ কেবল ভিসা সংক্রান্ত কাজেই ব্যবহার করা যাবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কর্তৃপক্ষ বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত দিলে তা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে পৃথক নিবন্ধন সংরক্ষণ এবং অর্থ ফেরতের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ধরনের অর্থ পাঠানোর আগে আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট, দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র, ইনভয়েসসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনসংক্রান্ত রেফারেন্স বা স্বীকৃতিপত্র সংগ্রহের কথাও বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সুবিধা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব অথবা এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেসব দেশে ভিসাপ্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি বা নিরাপত্তা আমানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়ক হবে।