বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের সামরিক জোটে যোগ দিতে পারবে ইসরাইলও, মানতে হবে এক শর্ত

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত যে জোটের আলোচনা চলছে, ভবিষ্যতে তাতে এক শর্তে যোগ দিতে পারে ইসরাইলও। শর্তটি হলো- ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি।

সম্প্রতি জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশগুলোর জন্য প্রকৃত সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি ‘সোনালি সুযোগ’।

তিনি বলেছেন, অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।

প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে ইরানকেও এই প্ল্যাটফর্মের অংশ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফিদান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে ইসরাইলও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এই সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে আঞ্চলিক দেশগুলোও ইসরাইলের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

এদিকে আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলন। ফিদান জানান, সব সদস্য দেশের সম্মতি থাকলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ন্যাটোর ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদার দেশগুলোর নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাগত জানাতে চায় তুরস্ক।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে তুর্কি সরকার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কাজ করছে এবং অতিথিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এসব দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটো নিয়ে সমালোচনামুখর অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে অংশ নেবেন কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফিদান। তিনি জানান, গত এক মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কোনো আলোচনাতেই ট্রাম্প সম্মেলনে না আসার ইঙ্গিত দেননি।

ফিদান বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের সব প্রস্তুতিই এমনভাবে নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো যায়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের সামরিক জোটে যোগ দিতে পারবে ইসরাইলও, মানতে হবে এক শর্ত

Update Time : ১১:৩৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত যে জোটের আলোচনা চলছে, ভবিষ্যতে তাতে এক শর্তে যোগ দিতে পারে ইসরাইলও। শর্তটি হলো- ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি।

সম্প্রতি জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশগুলোর জন্য প্রকৃত সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি ‘সোনালি সুযোগ’।

তিনি বলেছেন, অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।

প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে ইরানকেও এই প্ল্যাটফর্মের অংশ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফিদান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে ইসরাইলও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এই সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে আঞ্চলিক দেশগুলোও ইসরাইলের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

এদিকে আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলন। ফিদান জানান, সব সদস্য দেশের সম্মতি থাকলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ন্যাটোর ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদার দেশগুলোর নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাগত জানাতে চায় তুরস্ক।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে তুর্কি সরকার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কাজ করছে এবং অতিথিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এসব দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটো নিয়ে সমালোচনামুখর অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে অংশ নেবেন কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফিদান। তিনি জানান, গত এক মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কোনো আলোচনাতেই ট্রাম্প সম্মেলনে না আসার ইঙ্গিত দেননি।

ফিদান বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের সব প্রস্তুতিই এমনভাবে নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো যায়।’