বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি যুদ্ধবিমানকে সুরক্ষা দিচ্ছে পাকিস্তান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ১২২ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে  চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে বাঁচাতে ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক বিমান পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ওয়াশিংটনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের ‘নিরপেক্ষ’ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নূর খান’ ঘাঁটিতে ইরানের বেশ কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইরানি বিমানবাহিনীর একটি আরসি-১৩০ গোয়েন্দা ও তথ্য সংগ্রহকারী বিমান। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তার ঠিক কয়েক দিন পরই এই বিমানগুলো পাকিস্তানে পাঠানো হয়।

কেবল পাকিস্তান নয়, প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও ইরান তাদের কিছু বেসামরিক বিমান পার্ক করে রেখেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই খবর অস্বীকার করেছেন। তবে আফগান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের সময় আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ‘মাহান এয়ারের’ একটি বিমান প্রথমে কাবুল ও পরে নিরাপত্তার স্বার্থে হেরাত বিমানবন্দরে রাখা হয়েছিল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

তবে পাকিস্তান এই দাবিকে পুরোপুরি ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন ঊর্ধ্বতন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানান, নূর খান ঘাঁটিটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত, সেখানে এত বড় বড় বিমান সবার চোখের আড়ালে রাখা অসম্ভব।

এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তান নিজের ইচ্ছায় নয় বরং হোয়াইট হাউসের চাপেই মধ্যস্থতা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লস্কর-ই-তৈয়বার মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে হামাসের সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তাদের সামরিক সরঞ্জামের ৮০ শতাংশই আসছে চীন থেকে, যারা ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

ইরানি যুদ্ধবিমানকে সুরক্ষা দিচ্ছে পাকিস্তান

Update Time : ০৭:২০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে  চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে বাঁচাতে ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক বিমান পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ওয়াশিংটনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের ‘নিরপেক্ষ’ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নূর খান’ ঘাঁটিতে ইরানের বেশ কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইরানি বিমানবাহিনীর একটি আরসি-১৩০ গোয়েন্দা ও তথ্য সংগ্রহকারী বিমান। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তার ঠিক কয়েক দিন পরই এই বিমানগুলো পাকিস্তানে পাঠানো হয়।

কেবল পাকিস্তান নয়, প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও ইরান তাদের কিছু বেসামরিক বিমান পার্ক করে রেখেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই খবর অস্বীকার করেছেন। তবে আফগান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের সময় আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ‘মাহান এয়ারের’ একটি বিমান প্রথমে কাবুল ও পরে নিরাপত্তার স্বার্থে হেরাত বিমানবন্দরে রাখা হয়েছিল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

তবে পাকিস্তান এই দাবিকে পুরোপুরি ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন ঊর্ধ্বতন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানান, নূর খান ঘাঁটিটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত, সেখানে এত বড় বড় বিমান সবার চোখের আড়ালে রাখা অসম্ভব।

এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তান নিজের ইচ্ছায় নয় বরং হোয়াইট হাউসের চাপেই মধ্যস্থতা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লস্কর-ই-তৈয়বার মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে হামাসের সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তাদের সামরিক সরঞ্জামের ৮০ শতাংশই আসছে চীন থেকে, যারা ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র।