শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের কবরে শায়িত হলেন আতাউর রহমান

জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হলো গুণী নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। সেখানে মায়ের কবরেই তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে সোমবার (১১ মে) মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

পরিবারসূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাৎক্ষণিক আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

ওইদিনই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর মগবাজারে ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবনের সামনে বাদ জোহর আতাউর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার ছোট ভাই আবু নোমান মামুদুর। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশীদ, জাহিদ হাসান, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, গাজী রাকায়েতসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু মানুষ।

জানাজার পর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আতাউর রহমানের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পক্ষ থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত তিনি। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

জনপ্রিয়

মায়ের কবরে শায়িত হলেন আতাউর রহমান

Update Time : ০২:৫৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হলো গুণী নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। সেখানে মায়ের কবরেই তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে সোমবার (১১ মে) মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

পরিবারসূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাৎক্ষণিক আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

ওইদিনই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর মগবাজারে ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবনের সামনে বাদ জোহর আতাউর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার ছোট ভাই আবু নোমান মামুদুর। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশীদ, জাহিদ হাসান, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, গাজী রাকায়েতসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু মানুষ।

জানাজার পর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আতাউর রহমানের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পক্ষ থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত তিনি। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।