বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৯২ Time View

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলছেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখনও ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ।

আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিন লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা দেওয়া উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চীনের টিকায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কার্যক্রম আরও বেগবান, গতিশীল করবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক খাতের পরম বন্ধু হিসেবে চীন যে বাংলাদেশের পাশে আছে, সেটা আবার প্রমাণিত হলো।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পোলিও, যক্ষ্মাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন, তার কোনো ঘাটতি নেই। এসব রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকি শিশুদের শিগগির টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া শিগরিরই ‘ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন’ শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি সাওপোং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং। সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং জানান, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকারী ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও (এসআইপিভি) টিকা অনুদান দিতে পেরেও তারা আনন্দিত।

লি নিং বলেন, ‘আশা করি, এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক পাশে থেকে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চীনা টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও টিকার চালান ইতিমধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকার টিকাদানকেন্দ্রে যাবে।

সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতিমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় একই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Ayan

ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Update Time : ০২:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলছেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখনও ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ।

আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিন লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা দেওয়া উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চীনের টিকায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কার্যক্রম আরও বেগবান, গতিশীল করবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক খাতের পরম বন্ধু হিসেবে চীন যে বাংলাদেশের পাশে আছে, সেটা আবার প্রমাণিত হলো।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পোলিও, যক্ষ্মাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন, তার কোনো ঘাটতি নেই। এসব রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকি শিশুদের শিগগির টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া শিগরিরই ‘ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন’ শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি সাওপোং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং। সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং জানান, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকারী ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও (এসআইপিভি) টিকা অনুদান দিতে পেরেও তারা আনন্দিত।

লি নিং বলেন, ‘আশা করি, এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক পাশে থেকে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চীনা টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও টিকার চালান ইতিমধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকার টিকাদানকেন্দ্রে যাবে।

সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতিমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় একই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে।