দীর্ঘদিন বিরোধী দলের রাজনীতি করে মাসতিনেক হলো- সরকারে এসেছে বিএনপি। বিরোধী দলে থাকতে দলটির রাজনীতির যে ধরন ছিল, ভোটের পর স্বাভাবিকভাবে তা বদলে গেছে।
সরকার গঠন করে বিএনপি তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যস্ত। সরকারি সেবা ও কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে কাজ করছেন দায়িত্বশীলরা। সরকারের কার্যক্রম ও পরিকল্পনার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সেতুবন্ধ ঘটাতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সরকারের ‘পালস অব পলিটিক্স’ জনগণের কাছে তুলে ধরতে চান তিনি। সরকারি দলের সার্বিক রাজনীতি আরও কীভাবে জনমুখী করা যায়, সেই পরিকল্পনা ঠিক করতেই আজ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) দিনব্যাপী এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আজ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সভায় ৮২ সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষনেতারা উপস্থিত থাকবেন। সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতারা। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সভা চলবে সন্ধ্যা নাগাদ। অনুষ্ঠানে ৯ জন মন্ত্রী সরকারের ৯টি দিক নিয়ে কর্মশালায় বক্তব্য রাখবেন। বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলাদা সেশন থাকবে। যেখানে থাকতে পারে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের সুযোগ।
অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মাত্র চারজন নেতা উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী থাকবেন মঞ্চে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। এ সভার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক রাজনীতিতে ফিরছে বিএনপি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ ছিল। এ মতবিনিময় সভার মূল লক্ষ্য নেতাকর্মীদের আবারও সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং দলকে গতিশীল করা। সে সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি মোকাবিলা নয়, বরং ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকার বিষয়ে কথা বলবেন দলের নেতারা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল সময়ের আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন পর আমাদের এই সভা হচ্ছে। এখন যেহেতু সংসদ অধিবেশন নেই, এই সুযোগে সংগঠনের বিষয়ে সবার সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। এখানে নির্বাচন-উত্তর দলীয় কার্যক্রম ও সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের চেয়াম্যানের কাছ থেকে আসবে পারে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সময়ের আলোকে বলেন, সরকারকে জনগণের কাছে আরও সহজভাবে পৌঁছাতে নেতাকর্মীদের কাজে লাগতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী দিনে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বর্তমান কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরার কথা বলবেন তিনি। এ ছাড়া সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় তার দিকনির্দেশনাও থাকবে দলীয় চেয়ারম্যানের বক্তব্যে। যুবদল ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল সময়ের আলোকে বলেন, নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বসবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। আমরা আগামী দিনে যুবদলকে জনগণের উন্নয়নমূলক কাজে কীভাবে আরও সম্পৃক্ত করতে পারি, সেই পরামর্শ ও নির্দেশনা দেবেন তিনি। সংগঠনকে গতিশীল করা, আগামী দিনে কীভাবে সরকারের কার্যক্রম ও কৌশল পরিকল্পনা জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারি, এসব নিয়েই দলের চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা সময়ের আলোকে বলেন, সরকার ও সরকারপ্রধান তারেক রহমানের ‘পালস অব পলিটিক্স’ বা রাজনীতির স্পন্দন, সহজ কথায় সরকারি দল কীভাবে রাজনীতি করতে চায় তা বোঝানো হবে এই মতবিনিময় সভায়। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সবসময় অতিউৎসাহী কিছু লোক থাকে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হবে। বিরোধী দলে থাকতে যা করা যেত সরকারি দলে তা করা যাবে না। সরকার ও দল যাতে একাকার না হয়ে যায়, সেই বিষয়ে মতামত-পরামর্শ উঠে আসবে আলোচনায়।
গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সময়ের আলোকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চলছে, তা মোকাবিলায় কৌশল ঠিক করা হবে। বিভিন্ন ইস্যুতে মন্ত্রীরা সরকারের পদক্ষেপ-পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। ইশতেহারের অগ্রগতির কথা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলে জনগণের কাছে আমরা তা তুলে ধরব। বিশেষ করে জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছে। অঙ্গীকার অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রকৃত সত্য ঘটনা জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ ছাড়া সাংগঠনিক পুনর্গঠনে বিশেষ জোর দেওয়া হবে মতবিনিময়সভা থেকে।
সাংগঠনিক বিষয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, নির্বাচনের কারণে গত ডিসেম্বর থেকে তারা মূলত নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং সাংগঠনিক কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এখন নতুন করে দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই মতবিনিময়সভার মূল উদ্দেশ্য হলো নেতাকর্মীদের আবারও সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং দলকে গতিশীল করা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী জানান, এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া দলের মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। তারা সাংগঠনিক এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই-তিন মাসে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিশ্লেষণসহ উপস্থাপন করবেন।
অনলাইন সংস্করণ 










